Posts

Showing posts with the label BA-Bengali

হাঁসুলী বাঁকের উপকথা | তারকশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় | Hasuli Banker Upokotha

Image
  হাঁসুলী বাঁকের উপকথা   – কোপাই নদীর তীরে যেখানে নদীটি হাঁসুলীর মতো বাঁক নিয়েছে সেই বাঁশবাঁদি গ্রামের অন্ত্যজ শ্ৰেণীর মানুষ কাহারদের বিচিত্র জীবনযাত্রার মধ্যে আধুনিক জীবনের আগমন এক বিপ্রতীপ ব্যঞ্জনার সৃষ্টি করেছে। প্রাচীন কৃষি-ব্যবস্থানির্ভর জীবনে যন্ত্রসভ্যতার আবির্ভাবে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। কাহারদের লৌকিক বিশ্বাস, অলৌকিক জগৎ, সংস্কারভাবনা, পূজা-পার্বণ, শিকার-উৎসব, সঙ্গীত বশি এর মধ্যেই যে তাদের সংস্কৃতি তাকে লেখক তন্নিষ্ঠ বাস্তবতায় চিত্রিত করেছেন। তাঁর অনেক লেখার মতো হাঁসুলী বাঁকের মানুষদের কাছ থেকে দেখেছেন। ‘আমার সাহিত্যজীবন’ গ্রন্থে লিখেছেন– ‘হাঁসুলী বাঁকের উপকথার মানুষদের পর্যন্ত আমার এইভাবে জানার সুযোগ হয়েছিল ওই সুচাঁদ এবং আমি বসে গল্প করেছি আর বিড়ি টেনেছি।’  ১৩৫৩-র শারদীয়া আনন্দবাজারে এই উপন্যাসটি বেরিয়েছিল। অবশ্য ওই বছর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার দরুন অক্টোবর মাসে পত্রিকা প্রকাশিত হয় নি, হয়েছিল ডিসেম্বর মাসে। ১৩৫৪ সনে বেঙ্গল পাবলিশার্স গ্রন্থাকারে উপন্যাসটি বের করে। এটি উৎসর্গ করা হয়েছিল কবিশেখর কালিদাস রায়কে। ( Credit - Bangla Library )  “দেবতায় শিস দিচ্ছেন চলে যাচ্ছ...

শিক্ষার হেরফের প্রবন্ধের প্রশ্ন উত্তর | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিক্ষার হেরফের প্রবন্ধ | Educostudy

Image
    রবীন্দ্র রচিত বিভিন্ন প্রবন্ধের মধ্যে অন্যতম শিক্ষা সম্পর্কিত একটি প্রবন্ধ হল শিক্ষার হেরফের ভারতবর্ষের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং পাশ্চাত্যের শিক্ষা ব্যবস্থার যে পার্থক্য বিদ্যমান এই শিক্ষার হেরফের প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে যুক্তিসহকারে ব্যাখ্যা করেছেন।     ভারতীয়দের বাহুল্য শিক্ষা আর বাহুল্য বর্জিত শিক্ষা সাথে পাশ্চাত্য শিক্ষার মেলবন্ধন এবং পার্থক্যীকরণ প্রক্রিয়া বেশ গুরুতরভাবে বর্ণনা করেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর । শিক্ষার হেরফের প্রবন্ধের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্ত র নিয়ে নিচে আলোচনা করা হলো -  শিক্ষার হেরফের প্রবন্ধের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর আমাদের স্বাস্থ্য এবং আনন্দের ব্যাঘাত হয় কেন ?      উত্তর -  আমাদের অত্যাবশ্যক প্রয়োজন মেটানোর সমপরিমাণ কাজ করলেই স্বাস্থ্য এবং আনন্দের ব্যাঘাত হয়।  বাংলায় সেরূপ গ্রন্থ নাই - এখানে কোন রূপ গ্রন্থের কথা বলা হয়েছে ?     উত্তর -       রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর শিক্ষার হেরফের প্রবন্ধে সেইরূপ বাংলা গ্রন্থ নাই বলতে বাংলা শখের বই কে বুঝিয়েছেন। Sad Story in Hindi বিধি...

পালামৌ গ্রন্থে লেখক এর যাত্রাপথের বর্ণনার পরিচয় দাও।

Image
   পালামৌ  সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি উল্লেখযোগ্য ভ্রমণ সাহিত্য । একদা পালন পরগনার নাম শুনে সঞ্জীবচন্দ্র তাকে সাহেব সমাকীর্ণ একটি স্থান বলে মনে মনে আবিষ্কার করেছিলেন কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর জন্য তিনি যেভাবে আয়োজন সমাহারে উপস্থিত হয়েছেন তাতে তার বর্ণনারীতির গুণ আরো বেশি ধরা পড়েছে। পালামৌ গ্রন্থে লেখক এর যাত্রাপথের বর্ণনার পরিচয় দাও।    একদা ডাক হরকরা নামক পত্রিকায় পালামৌ পরগনা থেকে প্রকাশিত হতো এ কথা লেখক শুনেছিলেন তখন থেকেই তিনি অনুমান করেছিলেন এই পালামৌ স্থানটি মনে হয় শহরের মতনই বৃহৎ এই উদ্দেশ্যে তিনি সেখানে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন এবং এই যাত্রাপথের পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা বৃদ্ধিত করেছেন।     রাঁচি থেকে লেখক পালামৌ এর জন্য যাত্রা শুরু করেছিলেন রাঁচি থেকে পালকি আরোহন করলে বাহগণের অনুরোধে তিনি দূর থেকে পালামৌ পরগনার বাহ্যিক পাহাড়ি পরিবেশ দেখতে পেয়েছিলেন।। এই পাহাড়ি পরিবেশ দেখে লেখক মনে করেছিলেন যেন মর্ত্যে মেঘ করেছে । লেখক সেখানে দাঁড়িয়ে দূর থেকে পালাময়ের সেই মনোহর দৃশ্য দেখতে লাগলো।।    দূরে সেই দৃশ্য লেখকের মনকে এতই আলোক...

মায়ামৃদঙ্গ উপন্যাসের নামকরণের সার্থকতা বিচার করো | মায়ামৃদঙ্গ সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

Image
    লেখক সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের অন্যতম সাহিত্য সৃষ্টি মায়া মৃদঙ্গ  । উপন্যাসটি সমকালীন সাহিত্যের প্রেক্ষাপটে এই উপন্যাসটি এক বিচিত্র জনজীবনের রূপ রীতির দলিল হিসেবে গৃহীত হয়েছে। আধুনিক বাস্তবতা গ্রাম কেন্দ্রিক জনজীবনের মানবিক বিকলন সম লিঙ্গের উন্মত্ত যৌনতার এক প্রেক্ষাপট এই উপন্যাসে সাহিত্যিক ভঙ্গিমায় তুলে ধরা হয়েছে। বিচিত্রমুখী এই উপন্যাসটির, মায়ামৃদঙ্গ উপন্যাসের নামকরণের সার্থকতা নিয়ে নিচে আলোচনা করা হলো। মায়ামৃদঙ্গ উপন্যাসের নামকরণের সার্থকতা।    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ‘ মায়ামৃদঙ্গ ’ উপন্যাসের মূল বিষয় এবং সেই বিষয়ের সঙ্গে জড়িত শিল্পী কলাকুশলীর সঙ্গে ব্যক্তি সম্পর্কের পারিবারিক বৃত্ত এমন ভাবে গঠিত করা হয়েছে যে গড়পত্তা একটা ভাব নগর নির্মাণ করা গেছে। উপন্যাসের নামকরণের প্রসঙ্গে এধরনের একটা কাঠামোগত বিন্যাসের কথা তুলে ধরার অবকাশ নিয়ে হয়তো বিতর্ক থাকতে পারে। আসলে উপন্যাসের মূল বিষয়টা আবার একটা অন্তর্গত মিথ বা গুঢ় অর্থপূর্ণভাব ব্যক্ততার ওপর টিকে আছে। এই ভাব ব্যক্ততা হল ভাব তত্ত্ব সংক্ষেপে মায়াতত্ত্ব ।         সাহিত্যে নামকরণ...

পালামৌ গ্রন্থে লেখকের ব্যাঘ্র শিকারের ঘটনাটি বর্ণনা কর

Image
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত পালামৌ একটি ভ্রমণ মূলক গ্রন্থ। গ্রন্থটিতে পালামৌ পরগনাতে যাবার ও পালামৌ পরগনা দেখে লেখক এর বিভিন্ন ভালোলাগা মন্দলাগা সেখানকার বিভিন্ন উপজাতিদের সংমিশ্রণে আসা তাদের জীবনযাত্রা সম্পর্কে এক পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা এই গ্রন্থে আমরা পেয়ে থাকি। পালামৌ গ্রন্থে লেখকের ব্যাঘ্র শিকারের ঘটনাটি বর্ণনা কর    এই পালামৌ প্রবন্ধের তৃতীয় পর্বে লেখক সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পালামৌ পরগনাতে অবস্থিত লাতেহার পাহাড়ের সৌন্দর্য বর্ণনা করেছেন। তিনি প্রায় প্রত্যেকদিন এই লাতেহার পাহাড়ের সৌন্দর্যকে উপভোগ করার জন্য বিকাল বেলায় একা একা পাহাড়ে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকতেন।    লেখক একদিন লাথিহার পাহাড় দেখতে বিকালবেলায় বেরিয়েছিলেন। হঠাৎ করে তার যাত্রা পথে একটি ছেলেকে দেখতে পান যে বিলদর্পে সেই পাহাড়ের দিকে যাচ্ছিল। আর তার পিছনে ছিল কতগুলি স্ত্রীলোক যারা ছেলেটির সঙ্গে সঙ্গেই চলছিল। লেখক সঞ্জীবচন্দ্র এই দৃশ্য দেখে মনে করেছেন হয়তো ছেলেটি ভাতের উপর রাগ করে বাড়ি ছেড়েছে তাই বাড়ির রমনীরা তাকে আটকানোর চেষ্টা করছে।   এরপর লেখক তাদের কাছে উপস্থিত হয়ে ছেলে...

মুক্তধারা নাটকের নামকরণ নিয়ে রবীন্দ্রনাথের দ্বিধাবোধ আলোচনা | মুক্তধারা নাটকের নামকরণ

Image
   রবীন্দ্রনাথের নাটিমালায় উল্লেখযোগ্য একটি পর্ব হলো রূপক সাংকেতিক ধারা। এই শাখা টি যে সকল শ্রেষ্ঠ নাটকে পরিপুষ্ট তাদের মধ্যে অন্যতম নাটক হলো মুক্তধারা । কিন্তু নাট্যকার এই নাটক রচনার প্রাক্কালে যে নামকরণ করেছিলেন পরবর্তী কলে তার নাম পরিবর্তন করেন। সমালোচকদের ভাষায় এটি একপ্রকার রবীন্দ্রনাথের  মতদ্বৈততা , তবুও তার নাম পরিবর্তনের কারণ অযৌক্তিক নয় যথেষ্ট প্রাসঙ্গিক। এখানে মুক্তধারা নাটকের নামকরণ নিয়ে রবীন্দ্রনাথের দ্বিধাবোধ নিয়ে সামান্য আলোচনা করা হলো - মুক্তধারা নাটকের নামকরণ নিয়ে রবীন্দ্রনাথের দ্বিধাবোধ মুক্তধারা নাটক রচনার প্রাক্কালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রানু অধিকারীকে একটি পত্রে লিখেছিলেন -       " আমি সমস্ত সপ্তাহ ধরে একটা নাটক লিখেছিলুম - শেষ হয়ে গেছে, তাই আজ আমার ছুটি। এ নাটকটি প্রায়শ্চিত্ত নয় এর নাম পথ ।"      -- এর থেকে বোঝা যায় তিনি এই নাট্য রচনার প্রথমেই নাটকের নামকরণ ঠিক করে নিয়েছিলেন। তাই যদি ঠিক ছিলো তবে কেনো নাটকের নামকরণ নিয়ে মতদ্বৈততা দেখা দিল !    রবীন্দ্র সাহিত্য পথ শব্দটি নানান অনুষঙ্গে ব্যাবহৃত হয়...

ইছামতী উপন্যাসে নায়ক ভবানী বন্দ্যোপাধ্যায়

Image
    বিভূতভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় এর বিখ্যাত উপন্যাস ইছামতি । লেখকের বিভিন্ন লেখার মধ্যে প্রকৃতি  অনাড়ম্বর ও কাঙ্ক্ষিত রূপে প্রবেশ করেছে, সেই দিক থেকে লেখকের শৈশব জড়িত ইছামতি নদী কে কেন্দ্র করে তার লেখা ইছামতি উপন্যাস। এই লেখার সাথে মানিক বন্দোপাধ্যায় এর পদ্মা নদীর মাঝি উপন্যাসের কিছুটা মিল থাকলেও তা বৈশিষ্ট্য গত। এই উপন্যাসের  নায়ক চরিত্র ভবানী বন্দোপাধ্যায় সম্পর্কে আলোচনা করা হলো। ইছামতী  উপন্যাসে নায়ক ভবানী বন্দ্যোপাধ্যায়      ভবানী বন্দোপাধ্যায়ের ‘ ইছামতী ’ উপন্যাসে নায়ক পদবাচ্য চরিত্র। কিন্তু তিনি সত্যিকারের নায়ক নন। কারণ নিস্তারিণীর মত দু-একটি চরিত্র তার দ্বারা সামান্য একটু প্রভাবিত হলেও অন্য কোন চরিত্র গভীরভাবে প্রভাবিত হয়নি এবং উপন্যাস কাহিনীর গতিবেগও তিনি সক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করেননি। তাছাড়া বিভূতিভূষণ হয়তো কোনো মনুষ্য চরিত্রকে এই উপন্যাসে নায়ক করতে চাননি।    ইছামতি নদী এখানে মহাকাল ও অনন্ত জীবন প্রবাহের প্রতীক। গননাতীত উমিপুঞ্জো নিয়ে যেমন নদীপ্রবাহের সৃষ্টি, এই নদী লালিত মানুষ গুলিও তেমনি অখন্ড কাল প্রবাহের এক...

মেঘনাদবধ কাব্যে চতুর্থ সর্গের প্রয়োজনীয়তা | মেঘনাদবধ কাব্যের চতুর্থ সর্গের পরিকল্পনা

Image
    উনবিংশ শতাব্দীর সূচনায় মধুসূদনের আবির্ভাব। সে সময় বাংলাদেশের পাশ্চাত্য শিক্ষা ও সংস্কৃতির জোয়ার বইছে।  সমগ্র জাতি তার পুরনো মূল্যবোধ অস্বীকার করে পাশ্চাত্য উন্নত দর্শনকে গ্রহণ করতে শুরু করেছে। নবজাগরণের শিক্ষায় উদ্দীপ্ত হয়ে স্বতন্ত্র চিন্তার আশ্রয় নিয়ে মধুসূদন যুগ ধর্মের সাথে সঙ্গতি রেখে কাব্য সৃষ্টি ও অন্যান্য রচনায় আত্মনিয়োগ করলেন। তিনি প্রথমেই এই অভিমত প্রকাশ করলেন যে তার মহাকাব্য রচনার উদ্দেশ্য পৃথক। মহাকাব্যের প্রধান গুন বিস্তৃতি।      মধুসূদন রামায়ণের যে অংশের কাহিনী থেকে তার কাব্যের উপাদান সংগ্রহ করেছেন তাতে ঘটনার স্বল্পতা এই বিস্তৃতির পক্ষে অন্তরায়। তা বুঝতে পেরেই তিনি মেঘনাথ কাব্যের চতুর্থ স্বর্গের পরিকল্পনা করেছেন। এখন এই স্বর্গটি সম্পর্কে অভিযোগ ওঠে, এই স্বর্গটি কাব্যের মূল কাহিনী হতে বিচ্ছিন্ন এবং মূল প্রয়োজন সিদ্ধির পক্ষে নিরর্থক। কিন্তু এই অভিযোগ কতটা স্বীকার্য সে বিষয়ে আমরা অগ্রসর হতে পারি -      চতুর্থ সর্গের কাহিনী সংযোজনের উপযোগিতা সম্পর্কে কবি নিজেও চিন্তা করেছেন। আপাতদৃষ্টিতে যে একে নিছক বাহুল্য মনে হত...

জীবনদেবতা কবিতায় জীবনদেবতার স্বরূপ আলোচনা করো | জীবনদেবতা কবিতার মূল ভাব

Image
   কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনের সমস্ত কর্ম কাণ্ডের কান্ডারী নিজ হস্তে কাব্যের মহিমায় এক পরিপূর্ণতা দান করেছিলেন যা তার সাহিত্যে নারী কখনো পুরুষ কখনো প্রেমিক, কখনো বা মহীয়সী দেবী। আর এই অলৌকিক এক অদৃশ্য চরিত্র যেনো কবির সকল কাব্য শক্তির আধার যাকে তিনি জীবনদেবতা কবিতায় আস্বাদন করতে চেয়েছেন বিচিত্র ভাবে। জীবনদেবতা তত্ব    "যিনি আমার সমস্ত ভালো-মন্দ আমার সমস্ত অনুকূল প্রতিকূল উপকরণ লইয়া আমার জীবনকে রচনা করিয়া লইয়াছেন তাহাকে কাব্যে আমি জীবনদেবতা নাম দিয়াছি।"          —---------- জীবনদেবতা সম্পর্কে একথা বলেছেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর আত্মপরিচয় গ্রন্থে। এই জীবন দেবতাই কবিকে চালিত করেছেন অভিজ্ঞতার ঘাটে ঘাটে বিভিন্ন রূপ রূপান্তরের মধ্য দিয়ে। জীবনদেবতা - ই কবির কাব্য ও ব্যক্তিজীবনের এক নিয়ন্ত্রিশক্তি। অর্থাৎ জীবনদেবতা তত্ত্বই কবির জীবনতত্ত্ব । কবি অন্যত্র বলেছেন -  মেঘনাদ বধ কাব্যে চতুর্থ স্বর্গের পরিকল্পনা বা প্রয়োজনীয়তা লেখ।     "জীবনদেবতা বিশ্বদেবতা থেকে স্বতন্ত্র সত্তা নয়।"         —--- ব...

হাঁসুলিবাঁকের উপকথা উপন্যাসের পাখি চরিত্র | তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায় | পাখি চরিত্র

Image
     কাহার, বাউরি, সাওতাল, ডোম প্রভৃতি সম্প্রদায়ের কথা যে সাহিত্যিক প্রথম লেখনী রূপে তুলে ধরেছিল তিনি  তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়  । তাকে ইংরেজি সাহিত্যের  টমাস হার্ডির  সাথে তুলনা করা হয়ে থাকে। তার হাসুলি বাঁকের উপকথা উপন্যাস টি অন্যতম এবং বেশ উল্লেখযোগ্য। এই উপন্যাসের  পাখি চরিত্র  সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হলো হাঁসুলিবাঁক উপন্যাসের পাখি চরিত্র      সুচাঁদের নাতনি বসনর মেয়ে পাখি। উপকথার একমাত্র নারী চরিত্র যে উপকথায় আধিদৈবিক জগতের বাইরে ব্যতিক্রমী চরিত্র। সু্চাঁদ আদ্দিকালের বদ্যি বুড়ি। সে প্রাচীনকালের লোকপুরাণের জগতের বাসিন্দা। বসন সুঁচাদের মত অতখানি প্রাচীনতাকে আকড়ে ধরে থাকে না। কালগত ব্যবধান তার মনে অঙ্কিত হয়েছে। পাখি বসনের চেয়েও আধুনিক। নতুন যুগের নবদূত করালীর যোগ্য সহধর্মিনী পাখি।      পাখির দেহে চৌধুরী কর্তার ছেলের রক্ত। বসনের ‘অঙের খেলার’ ফসল পাখি। চৌধুরীদের রক্তের তেজ,মননের অধিকার তাই স্বাভাবিক। করালী তার ‘অঙের মানুষ’। করালীর প্রতি কোনো বিরূপ মন্তব্য ও সহ্য করতে পারে না।      পাখি হেঁ...

হাঁসুলিবাঁক উপন্যাসে বনওয়ারি চরিত্র | হাঁসুলিবাঁকের উপকথা | তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়

Image
কাহার, বাউরি, সাওতাল, ডোম প্রভৃতি সম্প্রদায়ের কথা যে সাহিত্যিক প্রথম লেখনী রূপে তুলে ধরেছিল তিনি তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায় । তাকে ইংরেজি সাহিত্যের টমাস হার্ডির সাথে তুলনা করা হয়ে থাকে। তার হাসুলি বাঁকের উপকথা উপন্যাস টি অন্যতম এবং বেশ উল্লেখযোগ্য। এই উপন্যাসের বনওয়ারি চরিত্র সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হলো। হাঁসুলিবাঁক উপন্যাসে বনওয়ারি চরিত্র      হাঁসুলিবাঁকের উপকথার প্রধানতম চরিত্র বনওয়ারী। কোপাই এর তীরবর্তী কাহার কলের সে প্রতিনিধি। আলোচ্য উপন্যাসে কাহিনীর উত্থান-পতন তাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে।      করালি অত্যাচারী কাহার কুলের মূর্তিমান প্রতিবাদ কর্তাবাবার বাহনকেসে পুড়িয়ে মারার স্পর্ধা দেখায়। বাবুদের বকশিসে তার বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই। বাঁশবাদির অতিপ্রাকৃত জগতকে পিছনে ফেলে সে অবলীলাক্রমে চন্দনপুরে চলে যায়। কিন্তু বনোয়ারী এ সমাজের প্রতিনিধি সে মাতব্বর, “সকল কর্মের উপরে হলো তার মাতব্বরির দায়িত্ব ”,গ্রামের ভালো আগে দেখতে হবে তাকে। করালির উদ্ধত বেপরোয়া চালচলন তাকে ক্রুদ্ধ করে তোলে। বনওয়ারি বিশ্বাস করে করালির অপবাদের ফলে কাহার পাড়ায় নানা রকম বি...

স্বাধবার একাদশী নাটকে অটলবিহারী চরিত্র | স্বাধবার একাদশী | দীনবন্ধু মিত্র

Image
  বাংলা নাটকের প্রাণ প্রতিষ্ঠার যুগের অন্যতম শ্রেষ্ট নাট্যকার দীনবন্ধু মিত্র , তার সধবার একাদশী নাটক সেই যুগের অন্যতম সামাজিক দলিল।  এই নাটক খানির অন্যতম বিতর্কিত চরিত্র অটলবিহারী , এখানে এই চরিত্র সম্পর্কে আলোচনা করা হলো। স্বাধবার একাদশী নাটকে অটলবিহারী চরিত্র ?       দীনবন্ধু মিত্র তার নাটকে চরিত্র রূপায়নের ক্ষেত্রে বাস্তব অভিজ্ঞতার সূত্র প্রয়োগ করেছিলেন। ' নীলদর্পন ' নাটকের ক্ষেত্রে এর প্রমান মেলে এবং একই সুরে বলা যায় স্বাধবার একাদশীর ক্ষেত্রে তৎকালের নব্য বঙ্গের ইংরেজি শিক্ষিত যুব সমাজের অধঃপতনের দিকে লক্ষ্য রেখে দীনবন্ধু  নিমচাঁদ ও অঞ্চলের ন্যায় চরিত্র সৃজন করেছেন।    মনে রাখতে হবে নিমচাঁদ চরিত্রের পূর্বসূরী যদি মধুসূদনের একেই কি বলে সভ্যতা নবকুমার হয় তবে অটল অবশ্যই কালিনাথের সঙ্গে তুলনীয়। কিন্তু স্বাধবার একাদশীতে অটলকেই নায়ক হিসাবে Project করতে চেয়েছিলেন দীনবন্ধু। সমকালের কলকাতার নগর সভ্যতার রুচি, শিক্ষা ও সংস্কৃতিহীন ধনাঢ্য সমাজে রূপ বৈশিষ্ট্য ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছেন দীনবন্ধু । তাই উক্ত সমাজে অর্ধশিক্ষিত বা হস্তিমূর্খ মদ্যপ স্ব...